রাজনৈতিক কোন্দলের সূত্র ধরে কুপিয়ে নৃশংস হত্যাকান্ড, হত্যা মামলার তদন্তে থানা পুলিশ কর্তৃক মাত্র ১ জন এজাহারনামীয় ও ১ জন তদন্তে প্রাপ্ত আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করায় নারাজি দাখিল করা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ মূল আসামী মো: রাব্বি (১৯)- কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই পটুয়াখালী জেলা।
গত ১/১/২০২৫ তারিখ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানা যুবদল সদস্য নাসির হাওলাদারকে থানা এলাকার একটি দুর্গম স্থানে কতিপয় সহিংস দুষ্কৃতিকারী ধাঁরালো অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে হত্যা করে যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় থানায় ৬ জনকে এজাহারনামীয় আসামী করে একটি হত্যা মামলা(মামলা নং-১, তারিখ-১/১/২০২৫, ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড) রুজু হয়। থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্তে মাত্র ১ জন এজাহারনামীয় আসামী ও অপর একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হয় এবং মামলার প্রকৃত আসামীদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাদীর নারাজীর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পিবিআই, পটুয়াখালী কর্তৃক পুন:তদন্তের আদেশ প্রদান করেন। তদন্তকালে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী একাধিক আসামীদের সংশ্লিষ্টতার স্বাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। অত:পর গত ২৯/৭/২০২৬ তারিখ মামলার মূল আসামী মো: রাব্বি (১৯)- কে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারসাপেক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামী হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত অপরাপর আসামীদের নাম উল্লেখপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সার্বিক তদন্তে জানা যায় যে, গত ১/১/২০২৫ তারিখ পাথরঘাটা উপজেলায় বিএনপি’র সমাবেশ শেষে মামলার ১ নং আসামী ও অপর গ্রুপের যুবদল কর্মী হাসান গাজী ডিসিস্ট নাসির হাওলাদারকে ৫ আগস্টের পরের নেতা বলায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে হাসান গাজী আসামী রাব্বির সাথে মিলে নাসরকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং সেই মোতাবেক ঘটনার তারিখে রাব্বি, হাসান গাজী, মাইনুল, হানিফ গাজী ও অজ্ঞাতনামা অপর সহযোগীর সাথে মোটরাসাইকেলযোগে রাম-দা, বগি-দা, লোহার রড, হাতুড়ি ইত্যাদি সহকারে ডিসিস্টকে গোপন স্থানে ওত পেতে থেকে আক্রমণ করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্য হয়।
মামলাটির তদন্ত ও অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।