ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ব্রাজিলের আকস্মিক ও বেদনাদায়ক বিদায়ের পর ফুটবলবিশ্বে বড় এক ধাক্কা লেগেছে। নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলটির সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ভাঙা মন এবং ‘আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু সব শেষ’— এমন মন্তব্য ফুটবল ভক্তদের মনে তার অবসরের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন নেইমার সম্পূর্ণ নীরব, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছেলের উদ্দেশে একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত আবেগঘন চিঠি পোস্ট করে তিনি নেইমারকে ফুটবল না ছাড়ার এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
চিঠিতে একজন বাবা হিসেবে নেইমার সিনিয়র তার ছেলের পুরো ফুটবল যাত্রার কষ্ট ও সাফল্যের স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখা সেই ছোট্ট ছেলেটি যে আজ বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠবে, তা ঈশ্বর আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। মাঠের ট্রফি, গোল বা চুক্তির চেয়েও ছেলের পাশে থেকে প্রতিটি সুখ-দুঃখের ভাগীদার হতে পারাকেই তিনি একজন পিতা হিসেবে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য বলে মনে করেন। নেইমারকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, একটি কঠিন মুহূর্ত বা ব্যর্থতা কখনোই কোনো গল্পের শেষ নির্ধারণ করতে পারে না, কারণ জীবনের শেষ অধ্যায়টি ঈশ্বর নিজেই লেখেন।
ছেলের ওপর থেকে সব মানসিক চাপ ও সমালোচনার বোঝা নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে নেইমার সিনিয়র অনুরোধ করেছেন, যেন নেইমার আবার মাঠে ফিরে হাসেন এবং খেলাটাকে উপভোগ করেন। বয়স বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যে কোনো বাধা নয়, বরং ঈশ্বর হয়তো সামনে আরও বড় কোনো অলৌকিক কিছু অপেক্ষা করে রেখেছেন, এমনটাই বিশ্বাস তার। সমালোচকদের প্রত্যাশা কিংবা ব্যর্থতার গ্লানি কাঁধে না নিয়ে, হালকা মনে ফুটবল খেলে বিশ্ববাসীকে আবারও আনন্দ দেওয়ার জন্য তিনি ছেলের প্রতি আহ্বান জানান।
চিঠির শেষে নেইমার সিনিয়র অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, পুরো বিশ্ব নেইমারকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তাকে ভালোবেসেছেন এবং ছেলের জন্য জীবনের প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি বিনিদ্র রাত তিনি আবারও হাসিমুখে উৎসর্গ করতে রাজি আছেন।