টানটান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাসে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল দারুণ উপভোগ্য। তবে দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পর্তুগিজদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে। ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই দুই দল অন ও অফ টার্গেট মিলিয়ে মোট সাতটি শট নেয়। অষ্টম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুবর্ণ সুযোগটি পায় স্পেন। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন ওইয়ারজাবাল। তার সামনে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা ছাড়া আর কেউ ছিল না, কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের নেওয়া শটটি সাইডবারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে গেলে বেঁচে যায় পর্তুগাল।
পরক্ষণেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে পর্তুগাল। দলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শট নেন। তবে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন দুর্দান্ত দক্ষতায় সেটি কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এর তিন মিনিট পর পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তাও পরপর দুটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে পর্তুগালের একটি নিখুঁত দলগত আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন সিমন। ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে জোয়াও ফিলিক্সের জোরালো হেড স্প্যানিশ গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেওয়ার পর ফিরতি বলে রোনালদো কৌশলগত এক টোকা দেন। তবে এবারও বাজপাখির মতো উড়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন সিমন। বিরতির ঠিক তিন মিনিট আগে নুনো মেন্ডিসের আরও একটি দুর্দান্ত শট স্পেনের রক্ষণভাগের কল্যাণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের সেই ধার দ্বিতীয়ার্ধে ধরে রাখতে পারেনি পর্তুগাল। স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে রক্ষণভাগেই বেশি সময় পার করতে হয় রোনালদোদের। শেষ পর্যন্ত যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর করা চোখ ধাঁধানো গোলে উল্লাসে মাতে স্পেন। আর এই এক গোলের পরাজয়ে শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকেই অশ্রুসজল চোখে বিদায় নিতে হলো রোনালদোর পর্তুগালকে।