বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি ও তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা ৫ কোটি টাকা নিয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন বিস্ফোরক অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলি। বিরাটের মুখপাত্র এক সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন নয়, বরং ব্যক্তিগত গভীর বিশ্বাস ও পরম শ্রদ্ধা থেকেই মহারাজজির আশ্রমে গিয়েছিলেন কোহলি দম্পতি।
এই বিতর্কিত ঘটনার সূত্রপাত প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের এক শিষ্য রসিক দুলারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ঘটনার পর ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মা দাবি তোলেন, ২০২৩ সালে প্রথমবার প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে কোহলির উপস্থিতির পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, আশ্রমের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং জনপ্রিয়তা বাড়াতে রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থা ও আবাসন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিরাটকে ৫ কোটি টাকা দিয়েছিল।
তবে বিরাটের দল এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়, “ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মার করা সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও তথ্যগতভাবে ভুল। বিরাট কোহলি সম্পূর্ণ নিজের আত্মিক বিশ্বাস থেকেই সেখানে গিয়েছিলেন।” একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো তারকা বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী খবর প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়।
দীনেশ শর্মা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে লেখা একটি চিঠিতেও ভূমি মাফিয়া ও আবাসন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আশ্রমের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। তবে কোহলিকে কেন্দ্র করে তাঁর করা অর্থ লেনদেনের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের সান্নিধ্যে আসেন বিরাট। এরপর একাধিকবার এই তারকা দম্পতিকে মহারাজের দরবারে ভক্তিশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে দেখা গেছে, যা সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়।