কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বছরের পর বছর রাজপথে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ছিল না তাদের। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ তরুণদের দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভারতের পুরো রাজনৈতিক মহলকে পরাস্ত করেছে। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপির টানা বিক্ষোভের পর শনিবার মোদি সরকার তাদের মূল দাবিগুলো মেনে নেয়। পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দাবি আদায়ে জয় নিশ্চিত করে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মোদি সরকারের আমালে শীর্ষ কোনো মন্ত্রীকে এভাবে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছিল তরুণদের কৌশল। তারা কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পা দেয়নি। বিরোধী নেতারা সংহতি জানাতে এলে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দেন-নেতৃত্ব থাকবে শিক্ষার্থীদের হাতেই। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের জালে না জড়িয়ে আন্দোলনকে শুধু শিক্ষার্থীদের মেধা, পরীক্ষা ও কোটি কোটি তরুণের ভবিষ্যতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।
রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াকে আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে ফেলেছিল এই জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম। ২০ সেকেন্ডের রিলস, ড্রোন শট, অনশনের ভিডিও এবং মিম ব্যবহার করে লড়াইয়ের নতুন ভাষা তৈরি করে তারা। টিভি টকশো বা সরকারি সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম ঠিক করে দিত জনমত কোন দিকে যাবে। সরকারের যোগাযোগের কোনো ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমই শিক্ষার্থীদের এই বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল যুদ্ধ সামাল দিতে পারেনি।
রাজনীতিবিদেরা ভেবেছিলেন অভিজ্ঞতার কাছে তরুণেরা হেরে যাবে, কিন্তু দিনশেষে রাজনীতি ও আন্দোলনের চেনা সমীকরণটাই বদলে দিয়েছে এই আনকোরা শিক্ষার্থীরা। বছরের পর বছর পর ভারতের রাজনীতিতে তরুণেরা নেতাদের পেছনে না হেঁটে, বরং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদেরই নিজেদের পেছনে হাঁটতে বাধ্য করেছে।