মোঃ রাইসুল ইসলাম রাজু, দড়শনা চুয়াডাঙ্গা।
শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার চার উপজেলায় এবার ১১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা, মণ্ডপের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো পূজামণ্ডপে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।‘
তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এবারও এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কোনো পূজামণ্ডপের আশপাশে বড় ধরনের মেলার আয়োজন করা যাবে না। মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে হবে। বিশেষ করে রাতে প্রতিমা অরক্ষিত থাকার সময়ে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীলভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই চুয়াডাঙ্গায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হোক। এ জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি এবং স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন, জাতীয় গোয়েন্দা নিরাপত্তা সংস্থার সহকারী পরিচালক এসএম তারিকুল, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক উৎপল বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সদস্যরা।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
চুয়াডাঙ্গা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ১১৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৯টি, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ২০টি এবং জীবননগর উপজেলায় ২৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
এদিকে পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা এড়ানো এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে তারা সহযোগিতা করবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ বছর মহাসপ্তমী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।