আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; পাওনা টাকার বিরোধে হত্যা; দেড় বছর পর পিবিআই কর্তৃক হত্যার রহস্য উন্মোচন; গ্রেফতার ০১, বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভাস্থ আরামনগর বাজারে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কর্মরত রাসেল মিয়া (৩৮) গত ১৯/০৩/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ২০/০৩/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ০৮.০০ ঘটিকায় আরামনগর বাজারস্থ দুধ হাটি এলাকায় জনৈক হাফিজুর রহমানের চায়ের দোকানঘরের ভিতর বাঁশের ধন্নার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছাঃ মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-২১/০৩/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ; ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন।
সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ একজন সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই, জামালপুর জেলার উপর ন্যস্ত হয়। বর্তমানে এসআই সুমন আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১১/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সরিষাবাড়ী থানাধীন আরামনগর এলাকা থেকে সন্দিগ্ধ আসামি মোঃ কালু মিয়া (২৮), পিতা-মৃত বেলাল মিয়া, সাং-বেপারীপাড়া, থানা-সরিষাবাড়ী, জেলা-জামালপুরকে গ্রেফতার করে। গত ২৩/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং সহযোগী সোহেলসহ অন্যান্য আসামিদের নাম প্রকাশ করে। গ্রেফতারকৃত আসামী কালু মিয়া বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, নিহত রাসেল মিয়া ঘটনার কিছুদিন পূর্বে সোহেলের নিকট থেকে ৩৫,০০০/- টাকা ধার নেন। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য সোহেল তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার দিন সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে কালু মিয়াসহ অন্যান্যদের সহযোগিতায় নির্মমভাবে মারধর করে। একপর্যায়ে তার মুখে কাপড় ঢুকিয়ে এবং পায়ুপথে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে হাত-পা বেঁধে হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে রাসেলকে আরামনগর বাজারস্থ চায়ের দোকানঘরে নিয়ে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলমান।