মোঃ রাইসুল ইসলাম রাজু, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা।
বিদ্রোহী কবির স্মৃতিধন্য কার্পাসডাঙ্গায় শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহাসিক কার্পাসডাঙ্গায় পালিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কবি-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর। প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় তাঁর সাহিত্য আজও বাঙালির হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। স্বল্প সময়ের সৃষ্টিশীল জীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা। কবি একাধিকবার এই ঐতিহাসিক জনপদে এসেছেন এবং এখানে বসেই রচনা করেছেন কবিতা, ছড়া ও গান। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সেই আটচালা ঘরটি আজও কবির স্মৃতি বহন করে চলেছে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বপরিবারে পরপর দু’মাস বসবাস করেছিলেন।
স্থানীয়দের আমন্ত্রণে ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দু’বার নদীপথে কার্পাসডাঙ্গায় আসেন কবি নজরুল। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী প্রমিলা, দুই পুত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালা। তাঁরা কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ায় হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেন। কবির স্মৃতিবিজড়িত সেই ঘরটি এখনও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে।
কবির জন্ম ও মৃত্যুদিন ঘিরে প্রতিবছর কার্পাসডাঙ্গায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থানটি আরও সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।