ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ()
শিরোনাম
Headline Bullet চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থদের বিক্ষোভ মিছিল Headline Bullet ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙন রোধে কবিরপুর চরে জরুরি ট্রাম্পিং কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ Headline Bullet মেহেরপুরে ডিবির অভিযানে মাদক ও জুয়াড়ীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, ৩ মোবাইল উদ্ধার Headline Bullet মাদারীপুরে মানবপাচারের অভিযোগে এনামুল মাতুব্বর গ্রেপ্তার Headline Bullet কুষ্টিয়ায় একসঙ্গে নরমালি ৩ সন্তানের জন্ম Headline Bullet নাম রোল দেখে খাতার মূল্যায়ন করার অভিযোগ ইবির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে Headline Bullet ৪৫ বোতল স্কাফ কফ সিরাপসহ ফরিদপুরে এক নারী গ্রেপ্তার Headline Bullet মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট লিপুর বাগানবাড়িতে ডিবির অভিযান, পালালেন লিপু, আটক ১ Headline Bullet দামুড়হুদায় ডাকাতি মামলায় আসামি গ্রেফতার Headline Bullet দর্শনা পৌরসভায় প্রকৌশলী হারুনের দুর্নীতি: ডেন নির্মাণে অব্যাহতির পর এবার ডাস্টবিন ও সোলার লাইট অনিয়মের তদন্ত ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি

চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থদের বিক্ষোভ মিছিল

চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেই জায়গায় বৃক্ষরোপণ করায় পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ব্যবসায়ীরা। চুয়াডাঙ্গা শহরের চৌরাস্তা সংলগ্ন মসজিদের আশপাশে ঠেলাগাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন কয়েকটি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা নানান দাবিতে সড়কে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে হাসান চত্বর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, গত ৪ই আগস্ট জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার তৎপরতায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার হাসান চত্বরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সহকারী কমিশনার এস এম আব্দুর রউফ শিবলুর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ দায়িত্বে দোকানগুলো অপসারণ করে নেন। পরবর্তীতে ৭ই আগস্ট চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচের বাজার সড়ক এবং ব্রীজ সংলগ্ন আশেপাশের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের ওই পরিত্যক্ত অঞ্চলটিতে বনবিভাগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদকৃত সে সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায় সে সকল ব্যবসায়ীদের। পরে জেলা প্রশাসন বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়, সন্তানদের ভরণ-পোষণ এবং দুবেলা খাবারের সংস্থান করতে তারা চাকার ঠেলাগাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে আগ্রহী। তাদের কোনো স্থায়ী দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করার সামর্থ্য নেই। তাই প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে দিনের বেলায় নির্ধারিত উপযুক্ত স্থানে ঠেলাগাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করার সুযোগ চান তারা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রতিদিন সকালে এসে তারা ব্যবসা করবেন এবং সন্ধ্যার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঠেলাগাড়ি সরিয়ে নেবেন। ব্যবসার কারণে যাতে রাস্তার যানবাহন চলাচলে কোনো ধরনের যানজট বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, পথচারীদের চলাচলে অসুবিধা না হয় এবং মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াত ও নামাজ আদায়ে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটেসেদিকে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন।
এ ছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ঠেলাগাড়ি না রাখা, প্রতিদিন ব্যবসা শেষে স্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, প্রশাসন যদি জনস্বার্থে ভবিষ্যতে স্থান পরিবর্তন কিংবা ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেয়, তাহলে তারা তা মেনে নেবেন। তারা কোনো স্থায়ী জায়গা বা বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। শুধু পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য সীমিত পরিসরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও অস্থায়ীভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা করার সুযোগ চান।
আবেদনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি মানবিক ও সহানুভূতির দৃষ্টিতে বিবেচনা করে জনসাধারণের চলাচল ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করে চৌরাস্তা সংলগ্ন মসজিদের আশপাশে নির্ধারিত উপযুক্ত স্থানে চাকার ঠেলাগাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
তাদের আশা, জেলা প্রশাসনের সদয় অনুমতি পেলে কয়েকটি নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পরিবারগুলোর নিত্যদিনের খাবার ও জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহে সহায়তা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, পানের দোকানদার বাপ্পি, খাবারের দোকানদার শামিম, বাবু ফলের দোকান, হারুন ডাবের দোকান, রনি বিকাশ ব্যবসায়ী, জাকির প্রমুখ।


     এই বিভাগের আরো খবর