গত ০৬ জুলাই,২০২৬ খ্রিঃ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে সংঘটিত মুহাসিন মাতুব্বর (৩২) এর স্ত্রী আছমা আক্তার (২৬) হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শামীম তালুকদার টঙ্গিবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বলিয়াগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন আছমা আক্তার, তার স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর এবং তাদের চার বছর বয়সী কন্যা। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আছমার পূর্ববর্তী বিবাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতন্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৬ জুলাই সকালে নাস্তা প্রস্তুত না থাকা এবং এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন। পরে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনের ওপর পড়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। এরপর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। তবে তা সম্ভব না হওয়ায় মরদেহ খাটে রেখে চার বছর বয়সী কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৭ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেফতার করা হয়।পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন এবং মামলার অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।