রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের একটি বাসায় মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম সুমন (৪২)। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের জমিদার গলির একটি বাড়ির চতুর্থ তলার বাসায় এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সুমনের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তারের সঙ্গে নাজিমউদ্দিন রোডের ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
“টাকা চুরি ও মাদক সেবনের বিষয় নিয়ে সকালে তাঁদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতির একপর্যায়ে ধারালো বস্তুটি সুমনের বুকেই বিদ্ধ হয়।”
হাসপাতালে সুমনকে নিয়ে আসা তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, গতকাল সোমবার রাতে সুমন বাসায় ফেরার পর ঘর থেকে তাঁর ১ হাজার ৫০০ টাকা চুরি হয়। রাতেই তিনি সুমনকে বাথরুমে মাদক সেবন করতেও দেখেন। এই টাকা চুরি ও মাদক সেবনের বিষয় নিয়ে আজ সকালে তাঁদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে নাসিমাকে ব্যাপক মারধর করেন এবং তাঁর পেটে কামড় দেন। পরে লোহার তৈরি একটি ধারালো বস্তু এনে নাসিমাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন তিনি।
নাসিমা আরও দাবি করেন, মারধরের মুখে আত্মরক্ষার্থে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই ধারালো বস্তুটি সুমনের বুকেই বিদ্ধ হয়। এতে তাঁর বুক থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে নাসিমাই তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, সুমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের বুকের বাম পাশে একটি গভীর জখম রয়েছে। ঘটনার পর স্ত্রী নাসিমাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বংশাল থানা পুলিশ তদন্ত করছে।