কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাজপাড়া গ্রামে
গতকালজমির সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছে। রোপা আমন ধানের পরিচর্যার সময় আইল কাটা নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় তারা। এতে দুই নারী ও এক স্কুলছাত্রীসহ মোট ছয়জন রক্তাক্ত আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল মাজপাড়া গ্রামের একই মাঠে পাশাপাশি জমি রয়েছে আরজান আলী ও মোসলেমের। আরজান আলীর পক্ষে আব্দুর রউফ এবং মোসলেমের পক্ষে মোয়াজ্জেমও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। আহত আব্দুর রউফ জানান, “আমাদের জমির পাশে ওদের সবজির ক্ষেত রয়েছে। আমরা ধান চাষ করেছি, জমিতে পানি দেয়ার জন্য আইল কেটেছি। ফলে সারারাত ধরে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙার চেষ্টা করেছে। সকাল বেলা আমার বোন থামাতে গেলে তাকেও মারধর করেছে। দা দিয়েও মেরেছে।” আহতের স্বজন সুজন আলী বলেন, “জমির আইল কাটা নিয়ে ঝামেলা। ধাক্কাধাক্কি করতে করতে এক পর্যায়ে আরজান আর তার ছেলে বাড়ি থেকে দা বের করে এনে ছোট ভাইকে কোপায়। নোয়া ভাই আটকাতে গেলে তাকেও কোপায়। এরপর বাড়ির মেয়ে আটকাতে গেলে তাকেও কোপানো হয়েছে।” ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং একজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” আহতদের মধ্যে আরজান আলী, আব্দুর রউফ, মোসলেম, মোয়াজ্জেম এবং দুই নারী ও স্কুলছাত্রী রয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমানা বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও এবার তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করেছে।