চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য করা আবেদনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শামসুর রশিদ নামে এক আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রকৃত ঠিকানা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে আবেদন করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি তার পরিবারের একাধিক সদস্য সার ডিলার হিসেবে নিয়োজিত থাকায় প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তার ডিলার হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগে আবেদনকারীর ঠিকানা, নাগরিকত্ব, দাখিল করা কাগজপত্র এবং পরিবারের সদস্যদের ডিলারশিপের বিষয়টি সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সদস্য এবং আলুকদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মিঠু বলেন, আলুকদিয়া ইউনিয়নের হুচুকপাড়ার সালাউদ্দীনের ছেলে মো. শামসুর রশিদ ওই এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে আলুকদিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন। তার দাবি, শামসুর রশিদ আলুকদিয়া ইউনিয়নের প্রকৃত বাসিন্দা নন। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা হলে ঠিকানা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালার (গ) ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আবেদনকারীর পরিবারের কোনো সদস্য সার ডিলার হিসেবে নিয়োজিত থাকলে ওই আবেদনকারীকে সার ডিলার হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শামসুর রশিদের পরিবারের একাধিক সদস্য ইতোমধ্যে সার ডিলার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এ কারণে নীতিমালার আলোকে তার আবেদন ও যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সার ডিলার নিয়োগের প্রযোজ্য নীতিমালা ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আবেদন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে শামসুর রশিদ বলেন, “ সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী আবেদন করা হয়েছে। আমি নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি। কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে এখনো অভিযোগ আসেনি। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয়ে থাকে। কেউ অনিয়মভাবে আবেদন করলে তা বাতিল হবে।