যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, নির্যাতন ও সংসার থেকে বের করে দেওয়ার মামলায় মো. আরমান হোছাইন (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) বিচারক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর মিনুয়ারা আক্তারের সঙ্গে আরমানের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সংসার টিকিয়ে রাখতে মিনুয়ারা বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা এনে দেন। পরে আরমান বিদেশ যাওয়ার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় মিনুয়ারাকে সন্তানসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপরও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংসার করার চেষ্টা করেন। তবে দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে আর সংসারে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ জুন সকালে মিনুয়ারা সংসার করার অনুরোধ করলে আরমান আবারও যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। এমনকি চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে বুকে ও পেটে লাথি মারারও অভিযোগ রয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী মিনুয়ারা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তিনি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তি ভবিষ্যতে অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে।