ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ()

অপহরনের ৯ দিন পরে মিললো মরদেহ

Oplus_131072

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি গ্রামের যুবক রাফি অপহরণের নয় দিন পর মরদেহ হিসেবে ফিরে আসায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবিতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময়েও তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিহত রাফি প্রবাসী আকতার সর্দারের একমাত্র ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্বজনদের দাবি, রাফিকে অপহরণের পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পরিবারের কাছে প্রথমে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সেই দাবি কমিয়ে ৮ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। রাফির পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন। রাফির বাবা বিদেশে অবস্থান করায় পরিবারের নারী সদস্যরাই ঘোলদাড়ি পুলিশ ক্যাম্প, আলমডাঙ্গা থানা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ নয় দিন ধরে ছুটে বেড়িয়েও তারা ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেননি। অবশেষে শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর মাঠসংলগ্ন একটি খালে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রাফির বলে শনাক্ত করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত ছিল। দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে পড়ে থাকায় শিয়াল-কুকুরে শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অপহরণের পরও একজন যুবককে জীবিত উদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। একজন তরুণের জীবন এভাবে নিভে যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি এবং শেষ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।


     এই বিভাগের আরো খবর