গাজীপুরের টঙ্গীতে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে দুই যুবককে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) দিনগত রাত ৩টার দিকে বড়দেওড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ভুক্তভোগী দুজন হলেন সালেহীন মিয়া (২৮) ও টিটু মিয়া (২৮)।
গ্রেফতাররা হলেন— টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন বড়দেওড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে তারেক (১৯), একই এলাকার মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে আফসানা আক্তার আখি (২৮) এবং তার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস নদী (২৬)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া ও তার বন্ধু টিটু মিয়া টঙ্গীর বড়দেওড়া পুরান মসজিদ এলাকায় বসবাস করেন এবং আশুলিয়ার একটি ট্রেনিং সেন্টারে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বিকালে টিটুকে হানি ট্র্যাপে ফাঁদে ফেলে এক নারীর মাধ্যমে টঙ্গীর মুদাফা এলাকার কনসেপ্ট গার্মেন্টস কারখানাসংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ওই ভবনের চতুর্থ তলায় তাকে আটকে রাখা হয়। একই দিন রাত ৯টার দিকে সালেহীনকেও তার বন্ধু টিটুর মাধ্যমে ফোন করে ওই বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাদের একটি কক্ষে জিম্মি করে বেদম মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের চোখ বেঁধে রাতভর নির্যাতন করা হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর স্বজনদের মোবাইল ফোনে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা আদায় করে চক্রটি। পরে বুধবার কৌশলে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগীরা টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরপর টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার তারেককে গ্রেফতার করে। তারেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দিনগত রাত ৩টার দিকে বড়দেওড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আফসানা ও নদীকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বৃহস্পতিবার গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।