ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ()

১০ বছরের প্রেমের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন

Oplus_131072

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছেন এক তরুণী। এ ঘটনায় নির্ধারিত সমঝোতা বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই তরুণী ও তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুর গ্রামের তোফাজ্জল সরদারের ছেলে ওয়ালিদ হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক চলমান ছিল। সম্প্রতি ওয়ালিদ হোসেন বিয়ে করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে গত ৬ জুন প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।
ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ৯ জুন উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জয়নুল আবেদীন বৈঠকের বিষয়ে উভয় পক্ষকে অবহিত করলেও নির্ধারিত দিনে সেখানে উপস্থিত হননি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা নির্ধারিত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকলেও এসআই জয়নুল আবেদীন সেখানে আসেননি। তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওয়ালিদ হোসেন বর্তমানে রাজশাহীতে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত থাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী তরুণীর মা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিচার চাইতে এসেছি। কিন্তু কোথাও সঠিক সহযোগিতা পাচ্ছি না।”
পরিবারের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় ওই তরুণী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। যদিও এ বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, “ভুক্তভোগী তরুণীর মা থানায় এসে আমাকে জানান, তার উপস্থিতিতেই মেয়ের সঙ্গে ওয়ালিদ হোসেনের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। বিষয়টি শোনার পর আমি বলেছি, এমন ঘটনা সত্য হলে আইনগতভাবে তিনিও সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এরপর তারা কোনো লিখিত অভিযোগ না দিয়েই চলে যান।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সমঝোতা বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতেই হবে—এমন কোনো বিধান নেই। পুলিশ বিচারক নয়। প্রভাব খাটানোর কোনো বিষয়ও এখানে নেই। ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতে মামলা করার কথা জানিয়েছে। মামলা হলে আমরা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
অভিযুক্ত ওয়ালিদ হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


     এই বিভাগের আরো খবর