মোঃ রাইসুল ইসলাম রাজু, দর্শনা (চুয়াডাঙ্গা)
তীব্র গরমের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জেলার চার উপজেলার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ‘লাইন মেরামতের’ কথা বলে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ ব্যক্তি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ সংকটে পোল্ট্রি খামারি, মৎস্যচাষি, চার্জার ও অটোরিকশাচালক, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ওয়ার্কশপের মালিকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
দামুড়হুদার শিক্ষার্থী অনিক হাসান বলেন, রাতে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ২০ থেকে ২৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর আবার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এতে পড়াশোনা তো দূরের কথা, প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
জীবননগরের পেয়ারাতলা গ্রামের সুমি খাতুন বলেন, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অটোরিকশাচালক জিন্টু জানান, রাতে গাড়ির ব্যাটারি চার্জে দিয়েও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হচ্ছে না। এতে দিনের আয়ও কমে গেছে।
‘আব্বাস মোটরস অ্যান্ড ওয়ার্কশপ’-এর মালিক আব্বাস বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো কাজ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, তীব্র গরমে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ লোডশেডিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।