ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পরদিন এক মাদরাসাছাত্রের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের খেওড়া গ্রামের একটি স্থানীয় পুকুর থেকে সোমবার সকালে আলী আজগর নামের আট বছর বয়সী ওই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আলী আজগর উপজেলার খেওড়া মধ্যপাড়া গ্রামের মো. রাজিব মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে আলী আজগর মাদরাসার মাঠে সহপাঠীদের সাথে খেলতে যায়। খেলা শেষে সন্ধ্যার দিকে অন্য সকল শিক্ষার্থী মাদরাসায় ফিরে গেলেও আলী আজগর আর ঘরে ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে না পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারকে অবহিত করে। এরপর পরিবারের সদস্য, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মেহারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেন এবং সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের পরদিন সোমবার সকালে সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন বাবা মো. রাজিব মিয়া মাদরাসার উত্তর পাশে অবস্থিত একটি পুকুর পাড়ের দিকে যান। সেখানে পানির ওপর হঠাৎ ছেলের ব্যবহৃত জুতা ভাসতে দেখে তিনি স্থানীয়দের খবর দেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়ো হয়ে জাল ফেলে পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে আলী আজগরের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। খেলার ছলে কোনো একসময় শিশুটি পুকুরের পানিতে পড়ে তলিয়ে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অভিযোগ না থাকায় এবং এটি একটি দুর্ঘটনা হওয়ায় কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।