কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশু রাইশা মনির (৮) মরদেহ দীর্ঘ ৪৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নদের তীর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত রাইশা মনি কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকার রাশেদুল ইসলামের মেয়ে এবং কাঁচকোল বাজার নবীজান নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সমবয়সী কয়েকজন শিশুর সঙ্গে বাড়ির পাশে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যায় রাইশা। গোসলের একপর্যায়ে নদের কিনারা থেকে কিছুটা গভীরে চলে গেলে তীব্র স্রোতের টানে সে পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে দ্রুত এলাকায় খবর দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা রাতভর নদে খোঁজাখুঁজি চালান। পরবর্তীতে চিলমারী ফায়ার সার্ভিস এবং রংপুর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। তবে তীব্র স্রোতের কারণে নদে তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় নিখোঁজের পরদিন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ফিরে যায়।
অবশেষে নিখোঁজের প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পর আজ বুধবার দুপুরে কাঁচকোল কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী নদের তীরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে কাছে গিয়ে স্বজনরা সেটি নিখোঁজ রাইশার মরদেহ বলে শনাক্ত করেন এবং নদের তীর থেকে তা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
রাইশার এই মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে মা-বাবার আকুল আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ব্রহ্মপুত্র নদের ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শিশু রাইশা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের সঙ্গে আন্তরিকভাবে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছেন। আজ দুপুরে নদের তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অবুঝ শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।”