ঢাকা, সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ()

কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে

Oplus_131072

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঘরের টিন খুলে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাঠে নকশার (সিএনসি) দোকানে দুইটি কম্পিউটার, একটি করে রাউটার ও বৈদ্যুতিক পাখা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের কুমারখালীর শিপলু ফিলিং স্টেশনের পশ্চিমপাশের দোকানে ঘটে এমন চুরির ঘটনা। স্বজনদের ধার ও এনজিওর ঋণ এবং মাসিক কিস্তিতে কোম্পানি থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে দোকান চালুর মাত্র আটদিনের মাথায় এমন দুর্ধষ চুরি যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন যুবক মো. শিমুল বিশ্বাস (২৫)। তিনি কুমারখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলামের ছেলে। স্ত্রী, দুই সন্তান, বাবা -মা ও দুই ভাইসহ আটজন সদস্যের পরিবার তাঁর। এ ঘটনায় রবিবার (১০ মে) সকালে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী শিমুল বিশ্বাস। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। দুপুর একটার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালী শিপলু ফিলিং স্টেশনের পশ্চিমপাশে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। তার মধ্যে একটি শিমুল বিশ্বাসের আধুনিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতির কাঠে নকশা আকাঁনোর আধাপাকা টিনশেডের দোকান ঘর। ঘরটির চালার একটি টিন খোলা রয়েছে। দোকানের ভিতরে থাকা নকশার যন্ত্রটির একপাশ খোলা। নেই কম্পিউটার, রাউটার ও বৈদ্যুতিক পাখা।

এ সময় শিমুলের ছোট ভাই সোহাগ শেখ বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করা হয়েছিল। আর আজ (রবিবার) সকাল ৯টার দিকে দোকানের স্যাটার খুলে দেখি চালে একখান টিন নেই, দোকানের কম্পিউটার, রাউটার আর সিলিং ফ্যানটি নেই। আক্ষেপ করে যুবক শিমুল বিশ্বাস বলেন, আগে অন্যের দোকানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কম্পিউটারে নকশার আকাঁনোর কাজ করতাম। এরপর চলতি মাসে ২ তারিখে ব্যুরো বাংলা এনজিও থেকে তিন লাখ, বন্ধু ও স্বজনদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ এবং একটি কোম্পানির সঙ্গে মাসিক ৫০ হাজার টাকার কিস্তির চুক্তিসহ মোট সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা চালু করেছি। কিন্তু ব্যবসা চালুর মাত্র আটদিনের মাথায় ঘরের চালার টিন খুলে দুইটি কম্পিউটার, একটি রাউটার ও একটি ফ্যান চুরি হয়েছে। এতে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি আর ছোট ভাই সোহাগ শেখ দুজনে সবেমাত্র নকশার কাজ শুরু করেছিলাম। প্রতিদিন খরচ বাদে এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় হতো। তা দিয়ে আটজনের সংসার, কিস্তি আর স্বজনদের ধার পরিশোধের পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু এক রাতেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন কি করব? কিভাবে চলব? তা মাথায় আসছেনা। তাঁর ভাষ্য, দোকান পুনরায় চালু করতে অন্তত ৭০ হাজার টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহূর্তে আর কোনো স্বজন বা বন্ধুর কাছে হাত পাতার পরিস্থিতি নেই। বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা খান আতাউর রহমান সুজন বলেন, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য অনেক স্বপ্ন আর আর্থিক সংকট মাথায় নিয়ে ২ মে শিমুল ব্যবসা শুরু করেছিল। কিন্তু মাত্র আটদিনের মাথায় এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করেনি। পরিবার আর ধার- দেনা নিয়ে খুব অসহায় ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে শিমুল। পুলিশের সহযোগীতায় দ্রুত চুরির মালামাল উদ্ধার ও দোষীদের শাস্তির দাবি তাঁর। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে আন্ত:জেলা চোর চক্র এঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। অভিযান ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।


     এই বিভাগের আরো খবর