কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজিবি’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে নিয়মিতভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। চোরাচালান প্রতিরোধ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৯ মে) দৌলতপুর উপজেলার দুর্গম এলাকায় বসবাসরত অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। মেডিকেল ক্যাম্পে বিজিবির বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম ৩৫০ জন নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রকার ঔষধ প্রদান করে। বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষার কাজে নিয়োজিত নয়; সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও বিজিবি ইতিবাচকভাবে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপারেশনাল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমরা চাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন চিকিৎসাসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি ২০২৬ সালে ২৯ জন আসামিসহ ৯টি অস্ত্র, ১ হাজার ৩৫৭ বোতল মদ, ৯৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ২কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইন, ৯২ কেজি ৯৮গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬৫ হাজার ৮৮৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১২ বোতল এলএসডি এবং ১ কেজি আফিম আটক করেছে, যার সিজার মূল্য প্রায় ২২ কোটি ৪৫ লক্ষ ৯০ হাজার ৯০০ টাকা। এছাড়াও, সারা বিশ্বে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও ১ হাজার ৮০০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়।