কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের (১৩) মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার লালমাই পাহাড় থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয় ‘তুহিন’ নামের এক কিশোরকে তার সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ফুটেজটিকে কেন্দ্র করে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর ক্যাম্পাসের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় ওই কিশোর তুহিনের সাথে অপ্রতিম ঘোরাঘুরি করছিল। তুহিনের গতিবিধি ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল টিম যৌথভাবে তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ঘরে ফেরেনি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। স্বজনরা সম্ভাব্য স্থানে খুঁজে না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিথর দেহটি অপ্রতিমের বলে শনাক্ত করে।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, খবর পেয়ে পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে ওই শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি যে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা প্রাথমিক আলামতেই স্পষ্ট। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য সকল আলামত বিশ্লেষণ করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।