ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ()
শিরোনাম
Headline Bullet বিয়ের আগের রাতেই মাদকসহ আটক বর Headline Bullet পুলিশের লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাপ দেয় তাহসিফ আমি পালিয়ে আসি Headline Bullet পুলিশের চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রীয় থাকায় পুলিশ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ Headline Bullet আলমডাঙ্গায় পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার করেছে তিন জনকে Headline Bullet মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অভিযানে ৩৫ বোতল ভারতীয় মদ আটক Headline Bullet মহেশপুরে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ আটক এক Headline Bullet গাংনীতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এক Headline Bullet গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা,স্বামী শ্বশুরী পলাতক Headline Bullet কুড়িগ্রাম সদরে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও হেরোইনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর Headline Bullet রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ার অনুমোদন

রাজবাড়ীতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে গ্রামাঞ্চলের মানুষঃ


এস, এম রাহাত হোসেন ফারুক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ার কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলাতেই এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে এখন ভীড় বাড়ছে জল মোটরের দোকানে।
রাজবাড়ী জেলা কৃষিপ্রধান এলাকা। এতে করে স্বাভাবিক ভাবেই পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যদি সামগ্রিকভাবে পানির ব্যবহার বেশি হয়। এ কারণে এ মৌসুমে নদী তীরবর্তী এলাকাসহ সব এলাকাতেই এখন টিউবয়েল গুলোতে পানি উঠছে না। ফলে পানির অভাবে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলার প্রায় লক্ষাধিক নলকূপ মাসের পর মাস পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। পানির জন্যে চলছে হাহাকার। হুমকির মুখে পড়েছে রাজবাড়ী জেলার জনস্বাস্থ্য। মাঠ-ঘাট, বিল-ঝিল, জলাশয়, পুকুর-নদী কোথাও নেই পানি। পানি নেই নলকূপেও। জেলার ভেতর দিয়ে পদ্মা,যমুনা, চত্রা, গড়াই, হড়াই, চন্দনা,পুষসলীসহ বেশকিছু নদনদী প্রবাহিত। তবে গড়াই, পদ্মা, যমুনা বাদে সবই এখন মৃত।
জানাযায়, জেলার ৫টি উপজেলায় নলকূপে এ অবস্থা। এর মধ্যে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলাতেই প্রায় ১৩ হাজার নলকূপ পানির অভাবে অকেজো হয়ে গেছে। এ ছাড়া রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, কালুখালীসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে কোনো নলকূপেই পানি উঠছে না। গত কয়েক মাস ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। কিছু কিছু জায়গাতে পানি মিললেও চলতি মাসের শুরুতে একেবারেই পানিশূন্য সব নলকূপ।
পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো ক্রমেই পানি শূন্য আর গরমের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সব নলকূপই এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এ অঞ্চলে গত ৬ মাসের বেশি সময় ধরে বৃষ্টিও নেই। ফলে ক্রমেই অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কটে এক দিকে রান্না ও গৃহস্থালি কাজে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমন গরু-ছাগল বা গৃহপালিত পশু-পাখির জন্যও পাচ্ছে না পানি। এমন অবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
তবে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে, ব্যাক্তি উদ্যোগে যারা বাড়িতে নলকূপ বসিয়েছে তারা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়রের পরামর্শ নিয়ে নলকূপ স্থাপন করলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সঙ্কট থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে। ডিজাইন অনুসারে টিউবওয়েল না বসালে প্রত্যেক শুষ্ক মৌসুমে এটি ঘটতেই থাকবে।
এতে মানুষ পরেছে চরম বিপাকে। জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এমন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই তাদের নলকূপে কোনো পানি নেই। পানি নেই স্কুল-কলেজ, বিদ্যালয় ও হাসপাতালের নলকূপেও। হাট-বাজার, মাঠ-ঘাটের সব জায়গাতেই একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক সামথর্যবান মানুষ মাঠখুঁড়ে তাদের নলকূপের নিচে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে ইঞ্জিনচালিত জলমোটর বা সাবমার্সেল পাম্প বা এ জাতীয় মোটর স্থাপন করে নলকূপের পানি সচল রাখছে।
টিউবয়েল ব্যবসায়ী মামুনুর রহমান জানান, তাদের ঘরের শ্রমিকরা গ্রামাঞ্চলে নলকূপ বসিয়ে থাকে। সাধারণত ২০ থেকে ২৪ ফুট মাটির নিচে পানির লেয়ার বা স্তর পাওয়া যায় কিন্তু এখন নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে ৩২ থেকে ৪০ ফুট নিচে পানির লেয়ার মিলছে। তবুও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না।
কৃষিকাজে পরিকল্পিত সেচ কার্যক্রম চালানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে সচেতন মহলের অনেকেই। মাঠে সেচকাজে ব্যাপকহারে সেচপাম্প বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পনির অতিরিক্ত ব্যবহার করায় সঙ্কট বাড়ছে বলে অনেকে মনে করছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে বলে মতামত তাদের।
সুপেয় পনির সঙ্কটে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার না করতে পারলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে শিশুরা ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটেরপীড়াসহ নানা অসুখে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য অধিদফতর রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জেলার ৪২টি ইউনিয়নে ২৬টি করে তারা টিউবয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৬নম্বর টিউবয়েল গুলোতে পানি উঠছে না। তবে তারা টিউবয়েলে পানি উঠছে। বৃষ্টি হলেই এ পানির সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।


     এই বিভাগের আরো খবর