ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ()

খাস-মজা খাল পূর্ণ খননের উদ্বোধন করলেন মত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী

Oplus_131072

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১ দশমিক ৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মানুষ উপকৃত হবেন। মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন, দেশকে রক্ষা এবং কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হলে নদী-খাল পুনরুদ্ধার জরুরি। ক্ষমতায় এলে সারাদেশে খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন করা হবে বলে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল।”

এসময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, “১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগ ছিল একটি বিপ্লব, যা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।” মন্ত্রী আরও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আলাদা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। শুধু শহরের উন্নয়ন করলেই হবে না, গ্রাম ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা ও সুবিধা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া খাল খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং খালগুলোতে মাছ চাষ ও হাঁস পালন করে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, “খাল খননে শুধু ড্রেজারের ওপর নির্ভর না করে নারী-পুরুষ উভয়কে শ্রমিক হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।” পাশাপাশি খননকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি এবং এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।


     এই বিভাগের আরো খবর