ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ()

কুষ্টিয়ায় মাসুদ রুমি সেতুতে পুনরায় টোল আদায়ের প্রতিবাদে উত্তপ্ত সাধারণ জনতা

Oplus_131072

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠক জনতা ও স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পণ্ড হয়ে যায়। তোপের মুখে কর্মকর্তারা দ্রুত টোলপ্লাজা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জনদাবির মুখে এই সেতুতে টোল আদায় বন্ধ ছিল। গত ২০ মাসে টোল বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পুনরায় টোল আদায়ের লক্ষ্যে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় আগামী ৩ বছরের জন্য ‘মেসার্স থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’কে ইজারা প্রদান করে। এই প্রক্রিয়া তদারকি করতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সওজের একটি প্রতিনিধি দল টোলপ্লাজা পরিদর্শনে আসেন।

তারা টোলপ্লাজা কার্যালয়ে আলোচনায় বসলে কয়েকশ ছাত্র-জনতা ও সিএনজি চালকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা ‘টোলের নামে চাঁদাবাজি চলবে না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় কর্মকর্তারা গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতা নয়ন হোসেন রবিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণই সরকার। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, কুষ্টিয়ার মানুষ আর টোল চায় না। আজকের মধ্যে টোলঘর ভাঙতে হবে, নইলে ছাত্র-জনতা নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেবে।

কুমারখালী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা জানান, এটি তাদের এক দফা দাবি এই সেতুতে আর কোনোদিন টোল চালু করতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে,সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মনজুর আলম চুন্নু বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে টোল চালুর সিদ্ধান্ত চালকদের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে।

​এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, ইজারা সম্পন্ন হয়েছে এবং ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় কার্যক্রম শুরুর কথা।

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের দাবি দাওয়া নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হয়। এই সেতু ইজারা থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। এই সেতুটি ঢাকা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুরসহ বরিশাল বিভাগের সাথে সংযোগের প্রধান মাধ্যম।


     এই বিভাগের আরো খবর