কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সদস্যের বিরুদ্ধে কথিত মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং তাদের সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কর্মরত সিপাহী আব্বাস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন মাদক কারবারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এর বিনিময়ে অভিযানে সুবিধা দেওয়া বা আইনগত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার আশ্বাস দেওয়া হতো। এছাড়া অভিযানের সময় মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তাদের কাছে এমন একাধিক ভিডিও রয়েছে, যেখানে অভিযুক্তকে একজন কথিত মাদক কারবারীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সিপাহী আব্বাস উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে জানান, তিনি অভিযানে রয়েছেন। পরে আর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, মাদক নির্মূলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভেতরে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তা কঠোরভাবে দমন করা না গেলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।