কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এক গৃহবধূ, তার স্বামী ও সপরিবারে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে ঘরে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত বছর ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের ঘোনা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবার বাড়িতেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. রজব আলী। সে মিরপুর উপজেলার নিমতলা চৌদুয়ার গ্রামের মো. গাফফার শেখের সেজো ছেলে।বাবার বাড়ির পর এবার স্বামীর বাড়িতে হামলা,পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে রাতে নিমতলা চৌদুয়ার গ্রামের মো. আমজাদ শেখের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় আমজাদ শেখ মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রথমে কাউকে সন্দেহ না হলেও, বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর থেকেই আমজাদ শেখের বিবাহিত মেয়ে মোছা. আসমা খাতুনকে মোবাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে একই গ্রামের রজব আলী। একপর্যায়ে আসমার বাবা আমজাদ শেখ অভিযুক্ত রজবের পিতা গাফফার শেখকে বিষয়টি জানান এবং বলেন, “আপনার ছেলে আমার মেয়েকে ফোনে বিরক্ত করছে এবং স্বামীকে তালাক দিয়ে তার কাছে চলে আসার জন্য হুমকি দিচ্ছে।” তবে একাধিকবার জানানোর পরও রজবের পরিবার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে আসমার শ্বশুরবাড়ি কচুবাড়িয়া গ্রামের ঘোনা পাড়ার এমদাদুল হকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। গভীর রাতে এমদাদুল হকের ছেলে তৌফিক ও পুত্রবধূ আসমা যে রুমে ঘুমাচ্ছিলেন, সেই রুম লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন জ্বলে উঠলে টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আলামত উদ্ধার ও ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য,ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোল বোমার বোতলসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে মিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আলামত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে।ভুক্তভোগীর বক্তব্য,ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. আসমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রজব আমাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমি যেন আমার স্বামীর সংসার না করি এবং তার কাছে চলে যাই—এজন্য সে চাপ দিচ্ছিল। মাঝে মাঝেই ফোন ও এসএমএস দিয়ে বিরক্ত করায় আমি তার নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে রেখে দিই। তার এই কু-প্রস্তাব না মানায় প্রথমে আমার বাবার বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। আর এখন আমার স্বামীর বাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে আমাদের সবাইকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।” থানায় অভিযোগ দায়ের,এ ঘটনায় আসমার বাবা আমজাদ শেখ এবং শ্বশুর এমদাদুল হক বাদী হয়ে মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে উপস্থিত হয়েছেন। আসমার বাবা আমজাদ শেখ মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন ও হুমকি-ধমকির বিষয়টি স্বীকার করে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও অভিযুক্ত রজবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।