কুষ্টিয়া শহরের উত্তর মিলপাড়া এলাকায় ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে চার্চ অব বাংলাদেশের মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত আছাই। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত শিশু এবং অভিযুক্তকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটির দাদী অভিযোগ করে বলেন, “আমার নাতনীকে জোর করে মিশন স্কুলের শৌচাগারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। সে শারীরিকভাবে আহত হয়েছে। আমরা আছাইয়ের ফাঁসি চাই।” শিশুর বাবা সুমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি নিরীহ শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য কাজ কীভাবে করা যায়? আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। আমি মামলা করব এবং তার ফাঁসি চাই।” স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আছাই দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। এক সুইপারের দেখা পেয়ে শিশুটি চিৎকার করলে আছাই পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু জনতা তাকে ধরে ফেলে। এলাকাবাসী আছাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এমনকি অভিযুক্তের মা মোছাঃ সাইতুনও বলেন, “যদি তার অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হোক। আমি ঘৃণায় তাকে দেখতেও যাইনি।” ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইকবাল হাসান জানান, “দুপুর ১টার দিকে শিশু ও অভিযুক্তকে হাসপাতালে আনা হয়। উভয়ের চিকিৎসা চলছে। শিশুটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।” ঘটনার পর উত্তর মিলপাড়া এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, শিশুটির বাবা বাদি হয়ে রাত আটটার দিকে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষণের অভিযোগে মামলার একমাত্র আসামি আশাদুল। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।