বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) সভাপতি মো. সাহিদুজ্জামান টরিক। ১৯৯৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত এ বাংলাদেশী উদ্যোক্তা বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক রূপান্তর, দেশটিতে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের অবস্থান, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার অন্তর্দৃষ্টিতে
৩১ বছর সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির পরিবর্তন, অর্জন এবং বর্তমান বাস্তবতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আমি ১৯৯৫ সালে যখন সিঙ্গাপুরে যাই, তখন দেশটির অবস্থা এখনকার মতো ছিল না। বাংলাদেশের অবস্থাও এমন ছিল না। গত ৩১ বছরে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা যখন যাই, তখন দেশটির অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল। এখন যেসব বড় বড় ভবন দেখছেন, মেরিনা বে স্যান্ডসের পাশের যে টাওয়ারগুলো দেখছেন, সেসব জায়গা পানির নিচে ছিল। বালি দিয়ে ভরাট করে এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো সবই আমাদের চোখের সামনে হয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর ছিল সিঙ্গাপুরের স্বর্ণযুগ।সিঙ্গাপুরের বড় বড় ভবন, ব্যবসায়িক কেন্দ্র, বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকের এশীয় প্রধান কার্যালয়, বহুজাতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব বড় কোম্পানির কার্যালয় সেখানে রয়েছে। এর কারণ একটাই, সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ। এখানে আপনি যে ব্যবসা-বাণিজ্যই করেন না কেন, নিয়মের মধ্যে চলতে হবে এবং সেখানে আপনি নিরাপদ থাকবেন। এ কারণে সারা বিশ্বের মানুষ গন্তব্য হিসেবে সিঙ্গাপুরকে পছন্দ করে। আপনি কোনো বিদেশী, আমেরিকান বা ইউরোপীয় ব্যবসায়ীকে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানালে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় তারা সিঙ্গাপুরে এসে বৈঠক করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।বাংলাদেশেও যে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তা নয়। গত ৩১ বছরে রাস্তাঘাট ও বিমানবন্দরসহ বাংলাদেশের উন্নয়নও কম হয়নি। আমরা অনেকেই বলি, এটা হচ্ছে না, ওটা হচ্ছে না। কিন্তু আগের সঙ্গে বর্তমানের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আমরা যখন বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতাম, তখন অভিবাসন কার্যক্রম ছিল পুরোপুরি ম্যানুয়াল। সেখানে দুই-তিনজন কর্মকর্তা বসে থাকতেন। যাত্রী ও উড়োজাহাজের সংখ্যাও এত বেশি ছিল না।
তখনকার সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করলে দেখা যায়, ঢাকা শহরে এত মানুষ ও কর্মসংস্থান ছিল না। আজ গুলশান-বনানী কিংবা মতিঝিলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে যেসব বড় বড় ভবন ও বাড়িঘর দেখা যায়, তখন সেগুলোর কিছুই ছিল না।
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য রফতানি হচ্ছে—এমন দৃশ্যও তখন আমরা দেখতাম না। এখন বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি যাচ্ছে। প্রতিটি উড়োজাহাজে প্রতিদিন তাজা সবজি পাঠানো হচ্ছে। মুড়ি, চানাচুর, ডাল ও চালের মতো শুকনো খাবারও বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে। প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, স্কয়ারের খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পণ্য সিঙ্গাপুরের বাজারের উপযোগী করে প্যাকেটজাত করে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এ কারণে আমি বলব, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কর্মশক্তির ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বেড়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী সিঙ্গাপুরে যান।
আমি যখন ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুরে যাই, তখন সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত ছিল সামুদ্রিক শিল্প ও জাহাজ নির্মাণ। এ খাতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ করতে যেতেন। এরপর ছিল নির্মাণ খাত। সিঙ্গাপুরে যেসব বড় বড় নির্মাণকাজ হয়েছে, সেগুলোতে বাংলাদেশী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা বলি, সিঙ্গাপুরের এসব নির্মাণকাজে বাংলাদেশীদের হাতের ছোঁয়া রয়েছে। ৫৮, ৬০, ৬২ কিংবা ৮০ তলা যেসব ভবন দেখা যায়, সেগুলোর প্রতিটিতেই বাংলাদেশীদের অবদান ছিল।অর্থাৎ দুই দেশেরই উন্নতি আপনি দেখেছেন। এই উন্নতির কোনো পার্থক্য কি আপনার চোখে পড়ে?সিঙ্গাপুরের উন্নতি একটা অর্গানাইজড ওয়েতে হয়েছে। কোথায় কী হবে, না হবে পাঁচ-সাত বছর আগেই তারা ঠিক করে ফেলে। এমনকি কোন ল্যান্ডে হাইরাইজ বিল্ডিং হবে, কোন চ্যাপ্টারে হাইরাইজ হবে না, কোন ব্লকগুলো হবে—এগুলো তারা আগেই করে রাখে। আর আমাদের দেশের উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটা অর্গানাইজড ওয়েতে কম ছিল। এটাকে আমি বলব দূরদর্শিতা।
সিঙ্গাপুরে মাটির নিচ দিয়ে একটা সিটি হচ্ছে। এটা প্রায় ২৫ কিলোমিটার। অফিস, আদালত, শপিং মল—সবকিছু থাকবে। সিটির নিচে আরেকটা সিটি। এটা নিয়ে অনেকদিন কাজ চলছে। আরেকটা মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে, তারা ২০১৯ সালে কাজ শুরু করেছে। এ উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় এয়ারপোর্ট হচ্ছে টার্মিনাল ফাইভ। ২০ হাজার লোক দিন-রাত সেখানে কাজ করছে। ১০ বছর লাগবে এ প্রজেক্ট হতে। যেখানে ফাইভ স্টার হোটেল, শপিং মলসহ সব থাকবে। এয়ারপোর্টে নামার পরে আপনি যদি মূল সিটিতে নাও যেতে চান, ইটস আ ডিফারেন্ট সিটি। আমরা এভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করি না। বাংলাদেশে পরিকল্পনার অভাব থাকে, বাস্তবায়নের ঘাটতি থাকে।আপনার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আপনার ব্যবসায়িক কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে চাই।
১৯৯৫ সালে যাওয়ার পরে আমার বিজনেস হলো এভিয়েশন লাইনে। ট্রাভেল এজেন্সি ছিল, আমরা ভিসাও করতাম। ব্যবসা শুরুর পর বাংলাদেশের প্রায় এক-দেড় লাখ মানুষকে আমার নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসি। তাদের টিকিট ও ভিসার ব্যবস্থা করা এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াতসংক্রান্ত সেবা দেয়া ছিল আমার কাজ।
সিঙ্গাপুরের স্থানীয় ও বাংলাদেশী মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার, ৪ হাজার কিংবা ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মী কাজ করতেন, তাদের দেশে যাতায়াতের টিকিটের ব্যবস্থাও আমি করতাম। তিন, পাঁচ কিংবা ছয় বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কর্মীদের দেশে পাঠাত, তখন তাদের করপোরেট টিকিটের ব্যবস্থাও আমি করতাম।
২০০৭ সালে ভাবলাম বাংলাদেশ থেকে অনেকে ট্রিটমেন্টে যায়, বেড়াতে যায়। তখন আমি আমার একটা সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট বিজনেস শুরু করি। আমার ২৮টা অ্যাপার্টমেন্ট আছে, যেখানে সবাই কমফোর্টেবল থাকতে পারে। আমার একটা রেস্টুরেন্ট আছে। কভিডের মধ্যে যেমন ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্টটা চলছিল না, ওরা চলে এল। পরে ওটা আমি আবার নিজে শুরু করেছিলাম। আর আমি টুকটাক ট্রেডিং বিজনেস করি।
সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকে আরো বেশি আকৃষ্ট করতে আমাদের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?
এটি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। ২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে আমরা সিঙ্গাপুরের ৩৮টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর আমরা প্রতি বছর ৪০-৪৫ জন বিনিয়োগকারী ও কোম্পানির মালিককে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিক ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন। বাংলাদেশে এসে আমরা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে বৈঠক করেছি। সরকারও আমাদের প্রয়োজনীয় প্লাটফর্ম দিয়েছিল। বর্তমানে অনেক সিঙ্গাপুরি কোম্পানি বাংলাদেশের নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করেছে। বেসরকারি পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজটি আমরাই শুরু করেছিলাম।
এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন এবং সমাধানের জন্য অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?
আমরা সরকারকে বলেছি ওয়ান স্টপ সার্ভিসের কথা। কাজগুলো যখন খুব স্মুথলি হয়ে যায়, তখন বিদেশীরা খুশি হয়। কিন্তু এ কাজগুলোর জন্য যদি বারবার ঘুরতে হয়, তাদের তো এত সময় নেই। আমরা যদি এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি জায়গা। কারণ এখানে প্রায় ১৮-২০ কোটি মানুষ। আপনি যদি কনজিউমার গুডসও তৈরি করেন, আপনার ভোক্তা হবে পাঁচ-সাত কোটি। এটা তো বিশ্বের কোথাও পাওয়া যাবে না।
দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের আমদানি বেশি, রফতানি কম। সিঙ্গাপুরে রফতানি বাড়াতে কী করা প্রয়োজন? এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএর প্রয়োজন আছে কি?
এফটিএ ও জিটুজি চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এর বাইরেও বেসরকারি খাতে ব্যবসার অনেক সুযোগ আছে। একটি ছোট উদাহরণ দেয়া যায়। সিঙ্গাপুর বর্তমানে বিপুল পরিমাণ বালি কিনছে। তারা ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা ও মিয়ানমার থেকে বালি নেয়। ভূমি পুনরুদ্ধারের কাজে সিঙ্গাপুর এ বালি ব্যবহার করছে। এখানে বাংলাদেশেরও সুযোগ রয়েছে।
আরেকটি সুযোগ দক্ষ কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে। সিঙ্গাপুরে ওয়েল্ডার, পাইপ ফিটার, নির্মাণকর্মী ও বিভিন্ন ধরনের টেকনিশিয়ানের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী পাঠাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের ভারত, থাইল্যান্ড ও চীনের কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশী কর্মীরা দক্ষ হলে সিঙ্গাপুরের নিয়োগদাতারা তাদের অগ্রাধিকার দেবেন। কারণ তারা জানেন, বাংলাদেশী কর্মীরা বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী। এজন্য বাংলাদেশী কর্মীরাই তাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সমস্যা হলো ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা চীনের কর্মীদের যে দক্ষতা রয়েছে, বাংলাদেশের কর্মীদের অনেক সময় সেই পর্যায়ের দক্ষতা দিয়ে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
একজন বাংলাদেশী কর্মী সিঙ্গাপুরে গেলে তাকে অন্তত সাধারণ ইংরেজি বুঝতে হবে। তা না হলে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হবে। সিঙ্গাপুরে সবাই ইংরেজিতে কথা বলেন। তাই আচরণ ও ভাষাজ্ঞান—দুই বিষয়েই প্রস্তুতি প্রয়োজন। পাশাপাশি যে কাজে যাচ্ছেন, সেই কাজের মৌলিক বিষয়গুলোও জানতে হবে। তিনি সাধারণ কর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার কিংবা কাঠমিস্ত্রি হতে পারেন। অথবা জাহাজ নির্মাণ, ওয়েল্ডিং কিংবা অন্য কোনো কাজ করতে পারেন। এসব কাজের মৌলিক প্রশিক্ষণ বাংলাদেশেই দেয়া প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা সেখানে কীভাবে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন?
আমরা যারা বেসরকারি খাতে কাজ করি, তাদের সবসময় সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সরকারি খাতের কাজ তুলনামূলকভাবে কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুমতি নিতে হয় এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম জড়িত থাকে। তবে বেসরকারি খাতে অনেক সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী কর্মীদের খাবারের জন্য অনেক কোম্পানি এখন ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার নেয়। বাংলাদেশী ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এমন প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষের খাবার সরবরাহ করে।
সিঙ্গাপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে কী পরিমাণ বাংলাদেশী উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী রয়েছেন?
আমি যখন ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুরে যাই, তখন সেখানে মাত্র তিন-চারটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জানলে অনেকে অবাক হবেন, সিঙ্গাপুরে বড় বড় ভবনের নির্মাণকাজে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তিভিত্তিক কাজ করছে। ডিবিএসের মতো প্রতিষ্ঠানের ভবনে আমাদের কর্মীরা অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজ করছেন। একইভাবে তারা চুক্তি নিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজও করছেন। ২০ বছর ধরে আমরা তাদের উৎসাহ ও সাহস দিয়ে সঙ্গে নিয়ে এসব কাজ করেছি। বর্তমানে প্রায় ২০০ জন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশী ব্যবসায়ী রয়েছেন। আগে এমন পরিস্থিতি ছিল না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, ছোট রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ধরনের ছোট কোম্পানির সংখ্যাও এখন অনেক। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে ৩০-৪০টি বাংলাদেশী রেস্তোরাঁ রয়েছে। এছাড়া ১৫-২০টি বড় ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার, কোনোটি ২০ হাজার, কোনোটি ৩০০ এবং কোনোটি ১০ হাজার মানুষের খাবার সরবরাহ করে। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই আমরা এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি।
আগামী ৫-১০ বছরে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কোন পর্যায়ে দেখতে চান? দুই দেশের বেসরকারি খাতের সম্পর্ক কীভাবে আরো এগিয়ে নেয়া যেতে পারে?
আমরা সবসময় চেষ্টা করি যে কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুরকে একটা ব্রিজ তৈরি করে দেয়া যায়। যে ব্রিজের মাধ্যমে সব ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে থাকবে। সিঙ্গাপুরের দিক থেকে আমরা যথেষ্ট সহযোগিতা পাই।
এ ব্রিজটা কি এখন নেই?
আছে, কিন্তু শুধু সেতু থাকলেই হবে না; পণ্যও পরিবহন করতে হবে। সেতুর ওপারে সিঙ্গাপুর, আর এপারে আমাদের সঙ্গে আরো আট-দশটি দেশ কিংবা চার-পাঁচটি প্রধান প্রতিযোগী রয়েছে। যে দেশ সবচেয়ে দ্রুত এই সেতু ব্যবহার করতে পারবে, তারাই আগে সিঙ্গাপুরের বাজারে পৌঁছবে। বেসরকারি খাতে আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন নতুন ক্ষেত্রে প্রবেশ করা।