ঢাকা, রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ()

৫০০ টাকার জন্য হত্যা

Oplus_131072

ময়মনসিংহে ৫০০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস বৃদ্ধা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. রনি মিয়া (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি কোতোয়ালী থানা এলাকার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নূরজাহান (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।

গ্রেপ্তারকৃত রনি মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি। তিনি মাঝে মাঝে তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে অবস্থান করতেন এবং এর জন্য ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। তবে সর্বশেষ ভাড়া পরিশোধ না করেই তিনি চলে যান, যা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে রনি মিয়া নূরজাহানের বাড়িতে যান। কথাবার্তার একপর্যায়ে নূরজাহান পূর্বের পাওনা টাকা দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি মিয়া হত্যার পরিকল্পনা করেন।পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ঘরে থাকা শিল দিয়ে নূরজাহানের মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

ঘটনার দুইদিন পর, ৩০ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্বজনরা বাড়ির পাশ থেকে খড়ের নিচে লুকানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তা অমিতাভ দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার (২ মে) ভোরে কোতোয়ালী থানার শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে রনি মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন রেখে অভিযুক্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পিবিআইয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।


     এই বিভাগের আরো খবর