হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি ছোট ভাই ‘লাম’ (১৫) আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ লামকে না পেয়ে নির্দোষ মেঝ ভাই আলিফকে (২৩) ধরে নিয়ে গিয়ে সেই মামলায় আসামি বানিয়ে কোর্টে চালান দেয় এবং জেলে পাঠায়। এই ঘটনায় ঢাকার সাভারে খালার বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা ছোটভাই লাম গত রোববার আত্মহত্যা করে। সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলামের ছেলে লাম ও আলিফের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে।
এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে ফিলিপনগরের কথিত পীর শামিম জনরোষে নিহত হন। ঐ হত্যাকাণ্ডের পরে ঘটনাস্থলে নবম শ্রেণির ছাত্র ১৫ বছর বয়সী লামকে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। তবে তাকে হামলা করতে দেখা যায়নি। এই ঘটনায় দৌলতপুর থানায় ৪ জনকে এজাহার ভুক্ত ও প্রায় ২ শো জনকে এজাহার বহির্ভুত আসামি করা হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে আসামিদের এজাহারে নাম ঢুকানো হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম আতঙ্কিত হয়ে ছেলেকে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেয়। গত ২৫ এপ্রিল রাতে লামকে ধরতে রবিউলের বাড়িতে হানা দেয় দৌলতপুর থানার পুলিশ। লামকে বাড়িতে না পেয়ে রবিউলের মেঝ ছেলে আলিফকে ধরে নিয়ে যায়। গোবেচারা রবিউল নির্দোষ ছেলেকে ছাড়াতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্ণা দেয়। নেতারা রবিউলের নিকট ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা বলেন, ৬০ হাজার টাকা দিলে আলিফকে থানা থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করবেন। দরিদ্র রবিউল টাকা জোগাড় করতে না পারায় পরদিন ২৬ এপ্রিল ঐ মামলায় আসামি দেখিয়ে আলিফকে কুষ্টিয়া কোর্টে চালান দেয়া হয় এবং ঐদিনই তাকে জেল হাজতে প্ররণ করা হয়। অথচ ঘটনার সময় আলিফ সেখানে যায়নি এবং ভিডিও ফুটেজেও তার কোন অস্তিত্ব নেই।
গত রোববার সকালে সাভারে খালার বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা লামের সাথে মোবাইলে কথা বলেন তার মা। মা তাকে সতর্ক করেন যে, কোনভাবেই গ্রেফতার হওয়া যাবে না। তখন লাম তার মায়ের কাছে দুঃখ করে বলে, তার কারণে তার নির্দোষ মেঝ ভাই জেল খাটছে, সে আসলে তার ভাইয়ের কাছে অপরাধি হয়ে গেল। এই ছিল মায়ের সাথে লামের শেষ কথা। তারপর লাম ফ্যানের সাথে দড়ি বেঁধে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ঐদিন রাতেই লামের লাশ কুষ্টিয়া জেল জেল গেটে আনা হয় ও মেঝ ভাই আলিফকে শেষবারের মতো ছোট ভাইয়ের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে ঐ রাতেই নিজ গ্রাম ফিলিপনগরে নিয়ে লাশ দাফন করা হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া ও চাপা ক্ষোভ। কথিত পীর হত্যার ঐ মামলাটি পুরোপুরি রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে শুরু থেকেই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দুই শতাধিক বেনামি আসামির জায়গায় যাকে তাকে ঢুকিয়ে বা ঢুকানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি রাজনৈতিক চক্র ফিলিপনগরে নীরব চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে বলে প্রকাশ। এতে হয়রানি শিকার হচ্ছে অসংখ্য ব্যক্তি ও পরিবার। অনেক নিরীহ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঘর ছাড়া ফেরারি। কেউ কেউ অসহায় হয়ে আলিফের মতো করুণ পরিণতি বরণ করার কথা ভাবছে বলে কানাঘুষা চলছে….