ঢাকা, বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ ()

ঋণের চাপে একই পরিবারের ৩ জনের আত্মহত্যা

Oplus_131072

মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে আট মাসের কন্যাসন্তানসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, স্ত্রীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা খরচ জোগাতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের ঋণের মুখে পড়েন ওই যুবক। তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং পরে সন্তানসহ নিজে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌর শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন সদর উপজেলার পূর্ব কলাগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা যতিন শিকদার ও তার স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। গত রোববার (১৭ মে) বিকেলে যতিন শিকদারের প্রথম পক্ষের ছেলে চিন্ময় শিকদার (২৬) তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সাউদা ওরফে ইশা (২২) এবং তাদের আট মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে মাদারীপুরের ওই বাসায় আসেন। রাতের খাবার শেষে চিন্ময় তার পরিবারসহ ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যান।

মধ্যরাতে দীর্ঘ সময় পার হলেও ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরবর্তীতে কোনো উপায় না দেখে চিন্ময়ের সৎ মা মিষ্টি বাড়ৈ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে সোমবার (১৮ মে) ভোররাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা গ্রামের এরশাদ মিয়ার মেয়ে ইসরাত জাহান সাউদার সঙ্গে চিন্ময় শিকদারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ইসরাতের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশা’ রাখা হয়। ইশা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্ত্রীর চিকিৎসার পেছনে চিন্ময়কে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান চিন্ময়ের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। দিন দিন ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই মানসিক অস্থিরতা ও হতাশার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে তিনি প্রথমে নিজ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং পরে আট মাসের নিষ্পাপ কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, “প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জের ধরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যের বিস্তারিত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”


     এই বিভাগের আরো খবর