টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামে সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও শিশু-কিশোরদের জন্য কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ ছিল না। ফসলি জমি ফাঁকা হলে সাময়িকভাবে খেলার সুযোগ মিললেও চাষাবাদ শুরু হলে মাঠের অভাবে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যেত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই কষ্টের কথা চিন্তা করে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ নিজস্ব অর্থায়নে একটি স্থায়ী খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ধনী-গরিব সবাই মিলে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলে একটি তহবিল গঠন করেন। শেষ পর্যন্ত প্রতি শতাংশ ৫২,০০০ টাকা মূল্যে মোট ৬০ শতাংশ জমি পছন্দ করা হয়, যার মধ্যে জমির মালিক ইকবাল হোসেন সুজন নিজেই ১ শতাংশ জমি দান করেন এবং বাকি ৫৯ শতাংশ জমির জন্য গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। গত ২৯ অক্টোবর আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই মাঠের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
গ্রামবাসীর এই অনন্য ও স্বতঃস্ফূর্ত ক্রীড়ানুরাগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নজরে আসে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মাঠের পরিধি আরও বড় করার ঘোষণা দেন। তিনি স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে উদ্বোধিত মাঠটির পাশেই আরও ৬০ শতাংশ খালি জমি রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে সেই জমিটি কিনে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারি এই নতুন জমি যুক্ত হওয়ার ফলে মাঠটির মোট আয়তন দাঁড়াচ্ছে ১২০ শতাংশ বা ১.২ একর, যা বাবুপুর গ্রামের শিশু-কিশোরদের বড় পরিসরে একটি মানসম্মত খেলার মাঠ পাওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে।