চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার জয়নগর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানাসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, এটি তাদের হয়রানি ও সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা একটি মিথ্যা মামলা।
জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক আজকের বসুন্ধরাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে হুন্ডি ব্যবসা, সীমান্তপথে অর্থ পাচার ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগসংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দৈনিক আজকের বসুন্ধরার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানা জানান, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর তিনি দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে সমনের খবর পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক ফেক আইডির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে সোহেল রানা, হাফিজুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও আসহাবুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন জাহাঙ্গীর হোসেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দিয়েছেন।
সংবাদে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি ব্যবসা, স্বর্ণ ও রূপা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, তিনি সীমান্ত এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবৈধ অর্থ লেনদেন পরিচালনা করেন এবং অতীতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দেশত্যাগে সহযোগিতা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।