পাঁচমাইল প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বোয়ালিয়া মাঝেরপাড়ার মেয়ে রুমি খাতুন (২৫) কুষ্টিয়ায় এক ভাড়া বাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও, নিহতের পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত রুমি খাতুন বোয়ালিয়া মাঝেরপাড়ার আব্দুর রহমানের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর আগে ঝিনাইদহ জেলার বুড়া এনায়েতপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে রুমির বিয়ে হয়। সোহেল রানা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে স্ত্রীকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন একে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করে এবং নিজেরাই রুমিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার দীর্ঘ সময় পর মাগরিবের নামাজের দিকে তাদের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, রুমির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ততক্ষণে ময়নাতদন্তের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ময়নাতদন্ত শেষ করা নিয়েও পরিবারটি সংশয় প্রকাশ করেছে। রুমির পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করে এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয় যে, সোহেল রানা ইতিপূর্বেও আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের সময় পূর্বের স্ত্রীর তথ্য গোপন করে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে রুমিকে বিয়ে করা হয়েছিল। এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সরোজগঞ্জ বোয়ালিয়াসহ নিহতের নিজ এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঠিক রহস্য উন্মোচন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।