ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ ()

পেটে বাচ্চাসহ স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

Oplus_131072

সাতক্ষীরায় পারিবারিক কলহের জেরে তাসলিমা খাতুন (২৫) নামে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তাসলিমা খাতুন দেবহাটা উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে। তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম হোসেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে তাঁর নানার বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সংসারে তীব্র অভাব-অনটন দেখা দেয়। আর্থিক কষ্টের জেরে কিছুদিন আগে তাসলিমা খাতুন তাঁর বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন। কিন্তু স্বামী সাদ্দাম হোসেন স্ত্রীর অনুমতি বা কোনো আলোচনা ছাড়াই ছাগলটি গোপনে বিক্রি করে দেন। এই ঘটনাটি জানতে পেরে শনিবার দিনভর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও কথাকাটাকাটি হয়।

পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদ্দাম হোসেন তাদের দুই সন্তানকে পাশের একটি ঘরে জোরপূর্বক আটকে রাখে। এরপর নিজেদের শোবার ঘরে তাসলিমার ওপর চড়াও হয়। মারধরের একপর্যায়ে সাদ্দাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমার গলা কেটে দেয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের মেঝেতে তাসলিমার রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক সাদ্দাম হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রাতেই সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ক্রাইম সিনের আলামত সংগ্রহ শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করি। আজ রবিবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছাগল বিক্রি এবং পারিবারিক অভাবের জেরে সৃষ্ট ঝগড়া থেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।”

ওসি আরও জানান, চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এই নৃশংস কায়দায় হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে পুলিশ।


     এই বিভাগের আরো খবর