ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ()

চুয়াডাঙ্গায় প্রতারনা মামলায় যুবক গ্রেফতার

Oplus_131072

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে আটক করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশ। আটককৃত মিলন (৪০) উত্তর চাঁদপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। গত মঙ্গলবার রাত আড়াটার দিকে চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের আনছার আলির ছেলে আদম ব্যবসায়ী মিলন একই গ্রামের হারুন অর রশিদকে কিরগিজস্তান দেশে নেওয়ার কথা বলে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। পরে তাকে ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে নিয়ে গিয়ে কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে অবৈধভাবে সেখানে ফেলে রাখে।পরে দীর্ঘদিন প্রবাসে মানবেতর জীবনযাপন শেষে পরিবারের পাঠানো আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এতে তার পরিবার প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা রকম টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হুমকি-ধামকি প্রদান করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়( যার মামলা নং ৩২৪/২২)। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তখন থেকেই আসামি মিলন পলাতক ছিল। গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু সাধারণ মানুষের সাথেই নয়, নিজের আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় তিনি ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলেও পরবর্তীতে তা ছেড়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে জড়িয়ে পড়েন বলে এলাকাবাসীর দাবি। এছাড়াও অভিযুক্তরা এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে বিপদে ফেলেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উক্ত আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক ছিল, তার বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ারেন্টসহ মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা সহ বিভিন্ন জেলায় প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্ট আছে মর্মে জানা যায়। উক্ত আসামিকে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়। অত্র ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে এসব মামলা হয় এবং সে ৩টি মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি। মামলার ১ নং আসামি মিলনের পিতা আনছার আলী আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আদালতে আরজি করে যে, আমরা সামাজিক ভাবে এর সমাধান করবো বলে জামিন নিয়ে আর সমাধান করেনা, দীর্ঘ দিন সে টাল বাহানা করে আসছে। দীর্ঘদিন মীমাংসার নামে নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নামে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য মামলা রয়েছে। তার নামে তিনটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। গতকালই তাকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


     এই বিভাগের আরো খবর