একটি ভাড়া বাসার বন্ধ কক্ষ থেকে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের ঘরের বিভিন্ন স্থান ও মেঝেতে রক্তের দাগ ও তার হাতে কাটা চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় পটিয়া পৌর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহুলি এলাকার ‘থ্রি স্টার’ বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস সুমাইয়া (২৪) নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমাইয়া পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার এয়ার আলী তালুকদার বাড়ি এলাকার আবদুল করিমের মেয়ে।নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগে পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ আরজুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তারা পটিয়া পৌর সদরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান স্বজন ও প্রতিবেশীরা। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি ইফতারের পরপরই পুলিশকে জানানো হয়।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সুমাইয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুল করিম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তার ভাগ্নি কাজী ফারজানা আক্তার সুমি মোবাইল ফোনে তাকে খবর দেন যে সুমাইয়ার বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং জানালা দিয়ে আলো ফেলে ঘরের ভেতরে রক্তের মতো কিছু দেখা যাচ্ছে।খবর পেয়ে তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে দ্রুত পটিয়ায় এসে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেয়ের ভাড়া বাসায় যান।
তিনি বলেন, ‘ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। ড্রইং রুমের বিভিন্ন স্থানে রক্ত দেখতে পাই। পরে শয়নকক্ষে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে তার পরিহিত ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে।