ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ ()

মাতাল স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতের মধ্যপ্রদেশে পারিবারিক কলহ ও মদ্যপ স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের জেরে স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন এক নারী। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ছত্রপুরের শিবনগর কলোনিতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নারীর নাম নীলম কুশওয়াহা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নিজেই স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম দীনদয়াল কুশওয়াহা। তিনি মূলত আঙ্গোর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে নীলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। ক্রমাগত পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক দূরত্বের কারণে গত প্রায় চার বছর ধরে তাঁরা সম্পূর্ণ আলাদা বসবাস করছিলেন। এমনকি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের (ডিভোর্স) একটি মামলাও স্থানীয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৩ জুন ধার্য ছিল।

অভিযুক্ত নীলমের পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীনদয়াল প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় নীলমের শিবনগর কলোনির বাড়িতে আসতেন এবং জোরপূর্বক নীলমকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টিসহ মারধর করতেন। ঘটনার দিনও দীনদয়াল চরম মদ্যপ অবস্থায় নীলমের ওপর চড়াও হন এবং আকস্মিক শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে ও ক্ষোভের বশে নীলম ভারী বস্তু দিয়ে পাল্টা আঘাত করলে দীনদয়াল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর নীলম কুশওয়াহা কোনো লুকোচুরির আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি স্থানীয় থানায় গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীনদয়ালের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে।


     এই বিভাগের আরো খবর