প্রেম থেকে পরিণতি মৃত্যু: বিয়ের চাপের জেরে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়াকে হত্যা, ১০ দিনের মধ্যেই পিবিআই কর্তৃক ঘাতক প্রেমিক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি
গত ১২ জুলাই ২০২৬ রাত ১১:৪০টা থেকে ১৩ জুলাই রাত ১০:০০টার পূর্বে যেকোনো সময় সাদিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. রিয়াজ মোল্লা বাদী হয়ে নিহতের স্বামী মো. ইব্রাহিম (২৭), তার পিতা মো. মহি উদ্দিন, মাতা মোছা. তাসলিমা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-২৫, তাং- ১৫/০৭/২০২৬খ্রি: জি.আর. নং-৩৭৩, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ দায়ের করেন। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পুলিশ উপ-পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রনি মামলাটির তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ১৬ জুলাই ২০২৬ রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন কোনাপাড়া এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুলাই ২০২৬ বিকেল হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আব্দুর রাজ্জাক (২৫)-কে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিঞ্জিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআইর তদন্তে এবং আসামির আব্দুর রাজ্জাকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, নিহত গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ১২ জুলাই ২০২৬ সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ ভাড়া বাসায় রেখে আত্মগোপনে চলে যায়।
ঘটনার সাথে অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।