ঢাকা, রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ()

নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত: রিজভী

৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাঙ্গীর আলমের আলাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সূত্র ধরে আজ মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল যে পূর্বনির্ধারিত তা প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাঙ্গীর আলম গত রবিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার সময় মিডিয়ার মাইক্রোফোন অন রেখে আওয়ামী দলদাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করার সময় ফাঁস করে দিয়েছেন। যা মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে গোটা দেশের জনগণ অবলোকন করেছেন।তিনি বলেন, ‘সেখানে মঞ্চে পাশে বসা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে আলাপের সময় ইসি সচিবকে বলতে শোনা যায়, যেয়ে ঘুমাইয়া যামুগা। এখানে বসে থেকে লাভ আছে? সবাই রেজাল্ট জানে। ৬৪ ডিসিদের মেসেজ আছে। ৬৪টা জেলার রেজাল্ট কী হবে সবাই জানে।পরে চলে যামুগা। ডিসিরা পাঠাইছে না। সব আছে। আমার কাছে আছে তো।এ সময় পাশে থাকা কর্মকর্তা ইসি সচিবের কানে কানে ফলাফল নিয়ে কিছু বলছিলেন। তখন ইসি সচিব বলেন- বিতর্কিত বানাইয়া ফালাইছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, সরকার যেখানে যাকে জেতাতে চেয়েছে সে জিতেছে। এই নির্বাচন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই হয়েছে। যেখানে তাদের প্রার্থীকে জেতাতে চেয়েছে, সেখানে তারা সেই ব্যবস্থা নিয়েছে।রিজভী বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখানোর নাটক করতে, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে নকল দল তথাকথিত কুইন্স পার্টি, ভুঁইফোড় পার্টি, ড্রিঙ্কস পার্টি, ছিন্নমূল পার্টি এবং খুচরা কিছু পার্টি , উচ্ছিষ্টভোগী জোট, গৃহপালিত বিরোধী দলকে এমপি বানানোর মুলার প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনে এনেছিল। শেখ হাসিনা তাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়ার পর এখন তারা গাল ফুলিয়ে প্রকাশ্যে কিভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে তার সরল সত্য গল্প বলে হা-হুতাশ করে বেড়াচ্ছেন। গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণের অভাবনীয়-অভূতপূর্ব নীরব প্রতিবাদে একটি উদ্ভট, গণবর্জিত প্রহসনের প্রকাশ্য অটো ভোট ডাকাতির মঞ্চায়ন দেখল দেশবাসীসহ গোটা বিশ্বের মানুষ।

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি গভীর রাত থেকে চুরি-ডাকাতি, জাল ভোট, শিশু-কিশোর ভোট, রাস্তা থেকে পথিক ধরে নিয়ে ভোট, একই ব্যক্তির ৫০ ভোট, মিনিটে ৫০ ভোট, একই লাইন থেকে ঘুরেফিরে বারবার জাল ভোট দিয়েও বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোটের ঘোষণা দিয়ে গণভবনের চাপে আবার এক ঘণ্টা পরেই ৪০ শতাংশ এবং গতকাল দুপুরে তা আরেক দফা বাড়িয়ে ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোটের গোঁজামিলের ভৌতিক হিসাব বানানোর এই ভুয়া হাস্যকর নির্বাচন ভোটের ইতিহাসে কলঙ্ক তিলক উৎকীর্ণ করল ডামি সরকার।’

জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ গণতান্ত্রিক বিশ্ব এই অংশগ্রহণহীন ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি প্রদান করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “বিশ্বের সমস্ত মিডিয়া এবং পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণ ও ভোটার সম্পর্কহীন পুরোপুরি ‘ওয়ান উইম্যান শো’-এর ঘোষিত জয়-পরাজয়ের ভোট বলে আখ্যায়িতকরেছে। পাতানো ডামি নির্বাচনের ফাঁদে পা দেয়নি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ। সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ভোটারশূন্য। শেখ হাসিনার এই প্রহসনমূলক নির্বাচন দেশকে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা ব্রিটিশ পর্যবেক্ষক জেজ কৌলসন সাংবাদিকদের বলেছেন, আই ফাউন্ড দ্য নর্থ কোরিয়া মডেল হিয়ার। বাংলাদেশে উত্তর কোরিয়া স্টাইলের একদলীয় নির্বাচন হয়েছে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘ডামি নির্বাচনের অসংখ্য ভিডিও দেখেছি। অগণিত ছবি দেখেছি। অনেকগুলো রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছি। তাতে প্রকৃত ভোট প্রদান শতকরা হারের মধ্যেই পড়বে না। ভোট ডাকাত সরকার ভোট প্রদানের পার্সেনটিজ যতই বাড়িয়ে বলুক, এটা এখন জনগণের কাছে হাস্যকর হয়েছে। দুর্নীতিবাজ ডামি সরকার দিয়ে দেশ চলতে পারে না।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণ বিএনপির কাছ থেকেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনের নেতৃত্ব আশা করে। সুতরাং আপনারা নিজ নিজ সাংগঠনিক এলাকায় গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিন। চলমান আন্দোলন সফল করতে হলে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’


     এই বিভাগের আরো খবর