ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রীন কুষ্টিয়া” আয়োজিত ব্যক্তি পর্যায়ে আইল্যান্ড গার্ডেন পরিচর্যা কার্যক্রমের প্রথম মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মূল্যায়নে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন, গাছপালার পরিচর্যা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে তিনটি গার্ডেনকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উক্ত সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করেছে শহীদ বুদ্ধিজীবী গার্ডেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মীর মশাররফ হোসেন গার্ডেন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে সিরাজ সাঁই গার্ডেন। ক্লিন-গ্রীনে গড়বো দেশ’ সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লিন কুষ্টিয়ার আহবায়ক আব্দুল মঈদ বাবুল ও সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জামির হোসেন। এতে উক্ত সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী, সদস্য ও সুধিজনেরা উপস্থিত ছিলেন।এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছি যাতে করে সকলের মাঝে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সেবা করার জন্য অনুপ্রেরণা জাগে। বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতিপ্রেমে যে টিমের কাজ সবচেয়ে ভালো হবে, তাদেরকে বিদেশ ট্যুরে নেওয়া হবে। এছাড়াও আমাদের এই বৃক্ষরোপণের ডকুমেন্টারি যারা সুন্দরভাবে প্রচার করবে, তাদের মধ্যে যাদের তৈরি ডকুমেন্টারি সবচেয়ে ভালো হবে, তাকেও বিদেশ ট্যুরের আওতায় আনা হবে।তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের এই উদ্যোগ শুধু একটি কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শহরের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি গলি, প্রতিটি গার্ডেন এবং প্রতিটি জনপদ যেন আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বের অংশ হয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে আমি আহ্বান জানাব আপনারা এগিয়ে আসুন। একটি গাছ লাগানো, একটি গাছের পরিচর্যা করা কিংবা নিজের আশপাশ পরিষ্কার রাখাও দেশ গঠনের অংশ। ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের সবার উচিত কুষ্টিয়ার উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর কুষ্টিয়া গড়ে তুলতে আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখব এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার। আয়োজকরা জানান, কুষ্টিয়া শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক করে তুলতে ব্যক্তি পর্যায়ে আইল্যান্ড গার্ডেন পরিচর্যার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা এবং শহরের সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।এদিকে গাছের পরিচর্যাকারী নাহিদ করিম মুন নামের এক ব্যক্তি সোস্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি, কখনও রৌদ্র সাথে কখনও অতিরিক্ত গরম, তারপর দিন আলোর শুরু আবার শেষ করতে করতে রাত ১১টা। আইল্যান্ড কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীপেশা মানুষ এসে দাড়িয়ে প্রসংসনীয় কথা বলা, আবার পরিচিতি সকলে দেখে যানবাহন থামিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা। গাছের ব্যাখ্যা হচ্ছে অক্সিজেন যেটা দিয়ে আমরা বেঁচে থাকি।আর কুষ্টিয়া জেলার জন্য এইটা বিকল্প কিছু নেই।এইটা একটা স্বেচ্ছাসেবক কর্মকান্ড। কে কোন স্থান পেয়েছে, সেইটা বড় বিষয় না, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাদে যে, সকলের প্রিয় কুষ্টিয়া জেলার সৌন্দর্য জন্য, গ্রীন কুষ্টিয়া ক্লিন কুষ্টিয়ার স্বেচ্ছাসেবক কাজে যা পাওয়া, সবকিছু জন্য আপনি নিজে এসে পরিদর্শন করে, সহযোগিতা, কিভাবে কি করতে হবে, উপদেশ মূলক সাহায্য করা, কখনও না বুঝতে পারলে ভিডিও কলে কথা বলে অবস্থান দেখে বুদ্ধিদাতা সব কিছুই আপনার জন্য ভাই। যা পেয়েছি না পেরেছি, সেটা পরের হিসাব, আপনার সাথে কাজ করতে পারা এটাই বড় অর্জন। সামনে দিনে আমাদের সকলের সদস্য দের কাজকর্ম আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় হবে বলে বিশ্বাস করি।