হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের মুখে থাকা ইরানকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়ে ছয়টি বিকল্প স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্তের ফলে তেহরান এখন রাশিয়ার পাশাপাশি চীন ও অন্যান্য দেশের সাথে খুব সহজেই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারবে।
তবে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। বিশেষ করে যখন পাকিস্তান নিজেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, তখন এমন পদক্ষেপে ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেরেক জে গ্রসম্যান এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ দেওয়ার কৌশল কার্যত ব্যর্থ হতে চলেছে। তিনি মনে করেন, সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইরানকে কোণঠাসা করার যে পরিকল্পনা ওয়াশিংটন করেছিল, এই ছয়টি স্থলপথ তা ভেস্তে দেবে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তান আবারও আমেরিকার সাথে দ্বিমুখী আচরণ করছে এবং এই পথগুলো ব্যবহার করে ইরান তার তেল বাণিজ্য সচল রাখার সুযোগ পাবে।
এদিকে, পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইসরায়েলও। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান মোটেও ‘নির্ভরযোগ্য’ নয়। মজার ব্যাপার হলো, খোদ ইরানও পাকিস্তানের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই জানিয়েছেন, পাকিস্তান ভালো বন্ধু হলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থের দিকে ঝুঁকে থাকে, তাই তারা উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না।
বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ সৃষ্টি করে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চাচ্ছেন ইরানকে চাপে ফেলে নিজের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে। তবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানের বন্দরগুলোতে ইরানের উদ্দেশে আসা তিন হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী কন্টেইনার আটকে আছে। নতুন এই ছয়টি রুট চালু হওয়ার ফলে এখন এই বিশাল পরিমাণ পণ্য সড়কপথেই ইরানে পৌঁছে যাবে, যা ট্রাম্পের অবরোধ কৌশলে বড় ধরনের ফাটল ধরাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।