ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ()

হরমুজ প্রনালিতে আবার উত্তেজনা

Oplus_131072

হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে চলমান উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের করাচি বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ ও কনটেইনার আটকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে করাচি বন্দরে ইরানের ৩০০০ কনটেইনার আটকা পড়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে এমন কিছু নথি সামনে এসেছে, যেখানে করাচি বন্দরে আটকে পড়া ৩০০০ কনটেইনার উদ্ধারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এই কনটেইনারগুলো মূলত ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল (trans-shipped)। কিন্তু নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় সেগুলো করাচি বন্দরে খালাস করতে হয়েছে।

শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সাথে একটি বিকল্প স্থলপথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কনটেইনারগুলো পাকিস্তানি ট্রাকের মাধ্যমে সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ইরানি ট্রাকগুলো সেগুলো গ্রহণ করে ইরানের ভেতরে নিয়ে যাবে।

এদিকে, সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ এবং শিপিং শিল্প সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান বর্তমানে ইউয়ানে (বিশেষ করে চীনের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টোল আদায় করছে। এই ব্যবস্থায় একটি স্তরভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তেলের ক্ষেত্রে ইরান প্রতি ব্যারেলে প্রায় এক ডলার করে চার্জ নিচ্ছে। ফলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী একটি জাহাজ থেকে ইরানের লাখ লাখ ডলার আয় হচ্ছে। অন্যান্য কার্গো বা পণ্যের ক্ষেত্রে তেলের ব্যারেলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে চার্জ নির্ধারণ করা হয়।

এই ব্যবস্থাটি ইরানের জন্য এতদিন সুবিধাজনক মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সরবরাহ শৃঙ্খল বাধাগ্রস্ত করার পথ খুঁজে পেয়েছে। মার্কিন অবরোধ কার্যকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে এবং খবর পাওয়া গেছে যে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন জাহাজ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবরোধ সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে বরং ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে কাজ করছে।


     এই বিভাগের আরো খবর