২০২২ সালের ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত তথা ১০ এপ্রিল ভোররাতে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন বাড়ৈই পাড়া এলাকায় ফারুক হাসানের বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে। বাধা দিলে ফারুক হাসান, তার স্ত্রী, ভাই মাসুম ও চাচা গিয়াস উদ্দিন গুরুতর আহত হন; এ সময় মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। একই রাতে খায়রুল বাশার ও তমিজ উদ্দিনের বাড়িতেও ডাকাতি সংঘটিত হয়। ঘটনায় সর্বমোট প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুণ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফারুক হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা নং-৩৮, তারিখ: ১০/০৪/২০২২ খ্রি., ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোডে দায়ের করেন।প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ প্রায় ১০ মাস তদন্ত পরিচালনা করে। পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ০৬/০৩/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মোঃ মফিজুর রহমান মামলাটির তদন্ত করছেন।
তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হোসেন মিয়া (৩৫) উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত। তাকে অন্য একটি মামলায় হাজতি অবস্থায় “শোন অ্যারেস্ট” দেখিয়ে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তার দেওয়া গত তথ্যের ভিত্তিতে ৩০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় রূপগঞ্জ থানাধীন বরপা উত্তর পাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে ডাকাত দলের অপর সক্রিয় সদস্য মোঃ আজিজুল হক ভূইয়া ওরফে আজিজুল হককে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
জবানবন্দিতে পর্যালোচনায় জানা যায় ২০২২ সালের ৯/১০ এপ্রিল রাতে তিনি সংঘবদ্ধ ১৫-২০ জনের একটি পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য হিসেবে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ পরিকল্পিতভাবে ফারুক হাসান, খায়রুল বাশার ও তমিজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যান। এছাড়া, তিনি দলের অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণ, লুণ্ঠিত মালামাল ও হামলার কৌশল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।
উক্ত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।