ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে মিলিত হয়। এ সময় কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্?বিতন্ডার জেরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ ছাড়া প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা পৌনে ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তাঁরা তালা খুলে দেন। এ সময় ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রধান আসামি ফজলু এখনো কথা বলতে না পারায় আমরা তার জবানবন্দি নিতে পারিনি। এ ছাড়া অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তাদের পাওয়া যায়নি এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি র্যাবের মাধ্যমেও তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’ উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি দ্রুতই তাদের প্রতিবেদন দেবে। বিভাগের শিক্ষক-সংকট নিরসনে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং রুনার নামে একটি হলের নামকরণের প্রস্তাব করা হবে। আইনানুগভাবে রুনার পরিবার যা যা প্রাপ্য, তা তারা পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা নিয়োগ হলে রুনার স্বামীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’ উল্লেখ্য, এ দিন অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা রুনা হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচার, রুনার পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি হল রুনার নামে নামকরণ এবং বিভাগের চলমান সব সংকট নিরসনের দাবি জানান।