ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ()

আলমডাঙ্গায় ডিজেল সংকট,কৃষকের মাথায় হাত

Oplus_131072

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কৃষকদের জন্য প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ডিজেল সরবরাহে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে স্বল্পমূল্যে ডিজেল বিতরণ কার্যক্রম চললেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে ভোগান্তি, দীর্ঘ লাইন এবং বৈষম্যের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সরেজমিনে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এরশাদপুর মোড় সংলগ্ন ইব্রাহিম স্টোর ও জিসান এন্টারপ্রাইজ ডিলার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক কৃষক তেলের ঢব ও পাত্র হাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকে সকাল থেকেই লাইনে অপেক্ষা করেও নির্ধারিত ৫ লিটার ডিজেল পাবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। লাইনে দাঁড়ানো কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক কৃষক জানান, “আমরা আইডি কার্ড নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু অনেকেই আইডি কার্ড ছাড়াই ব্যারেল ভর্তি তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।” আরেকজন কৃষক বলেন, “অনেক দূর থেকে এসে দিনমজুরির কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়েছি ৫ লিটার তেলের জন্য। এতে আমাদের একদিনের আয়ও নষ্ট হচ্ছে। অথচ আশপাশের দোকানে বেশি দামে (১৩০-১৪০ টাকা লিটার) তেল পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে এই তেল কোথা থেকে আসছে?” সরেজমিনে আরও দেখা যায়, যাদের প্রকৃতপক্ষে তেলের প্রয়োজন নেই, তারাও লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে কিছু নারী হঠাৎ করে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন—যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতদিন যাদের কৃষিকাজে তেলের প্রয়োজন ছিল না, তারাও এখন তেলের জন্য ভিড় করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিম আলী জানান, “আমরা নির্ধারিত মূল্যের বেশি নিচ্ছি না এবং সঠিক মাপে তেল দিচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে বেশি তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠছে, তারা হয়তো জানেন না—ডিসি, ইউএনও বা কৃষি অফিসারের বিশেষ সুপারিশে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত আছেন, তার নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা তেল বিতরণ করছি।” ডিলার পয়েন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মুসলিম উদ্দিন বলেন, “গতকাল আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি, যার মধ্যে ৬ হাজার ৭০০ লিটার বিক্রি হয়েছে। আজ আমাদের কাছে ৪ হাজার ৩০০ লিটার মজুদ রয়েছে। যতক্ষণ তেল থাকবে, ততক্ষণ কৃষকদের মাঝে ৫ লিটার করে বিতরণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যেসব কৃষকের অতিরিক্ত তেলের প্রয়োজন রয়েছে, তারা ইউএনও, ডিসি বা কৃষি অফিসারের সুপারিশ নিয়ে এলে মজুদ থাকা সাপেক্ষে অতিরিক্ত তেল দেওয়া হবে।” কৃষকদের দাবি, ডিজেল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ করতে হবে। অন্যথায় চলমান বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।


     এই বিভাগের আরো খবর