সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রোববার রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। এ ছাড়া তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাইকার অর্থায়নে শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে অভিযুক্তরা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২৩ মে দুপুরে কয়েকজনকে নিয়ে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসও মারধরের শিকার হন। এ সময় একটি স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। আহত দুজন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান বলেন, বর্ষার আগে কাজ শেষ না হলে উপকূলীয় এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কিন্তু বারবার বাধা ও হুমকির কারণে কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট সভায় ছিলেন বলেও দাবি করেন।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।