বগুড়ার আদমদীঘিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একান্তে দেখা করার প্রস্তাব এবং বিভিন্ন অনৈতিক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে মাহমুদুল হাসান (৩৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা আদমদীঘি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই গ্রামের বাসিন্দা এবং ধামাইল ঘোড়াদহ সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি শিক্ষক।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মাদরাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে একান্তে দেখা করার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন অনৈতিক বার্তা পাঠাচ্ছিলেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় গেলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা তাকে মাদরাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়।
মাদরাসার সুপার মাওলানা রহমতুল্লাহ জানান, ঘটনার পর ম্যানেজিং কমিটির সভা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।